খেলাধূলা ডেস্ক
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা পাননি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ ফিট না থাকায় তাকে দলে রাখা হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দলে ফিরেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিক।
দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরির কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার সর্বশেষ ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। হাঁটুর গুরুতর চোট কাটিয়ে তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ক্লাব ফুটবলে ফেরেন এবং সান্তোসের হয়ে চারটি ম্যাচে অংশ নেন। তবে পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেসে না ফেরায় তাকে বর্তমান স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোচ।
এই মাসের ২৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে ফ্রান্স জাতীয় দলের বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে দলীয় সমন্বয় ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য ম্যাচ দুটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেইমারকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে আনচেলত্তি বলেন, তিনি এখনো শতভাগ ফিট নন, তাই তাকে এই দফায় বিবেচনা করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মরক্কো জাতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। এই প্রেক্ষাপটে প্রীতি ম্যাচগুলোকে দল গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিক সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। ফরাসি ক্লাব লিওঁতে ধারে খেলতে গিয়ে তিনি নজর কাড়েন। এর আগে ২০২৪ সালে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে দায়িত্ব পালনকালে আনচেলত্তি তাকে ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাস থেকে দলে ভেড়ান। তার পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নতুন বিকল্প তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ইগর থিয়াগো ও রায়ান, যা ব্রাজিল দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির ইঙ্গিত বহন করে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দল গঠনের এই প্রচেষ্টা বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘোষিত স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে আছেন আলিসন বেকার, বেনতো ও এডারসন। ডিফেন্সে রয়েছেন আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মারকুইনহোস ও ওয়েসলি। মিডফিল্ডে আছেন আন্দ্রে সান্তোস, ক্যাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনহো ও গ্যাব্রিয়েল সারা। আর আক্রমণভাগে জায়গা পেয়েছেন এনদ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ইগর থিয়াগো, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিকে, ম্যাথিউস কুনহা, রাফিনহা, রায়ান ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বিশ্বকাপের আগে এই ধরনের প্রীতি ম্যাচ ও স্কোয়াড নির্বাচন ব্রাজিল দলের কৌশলগত পরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


