সারাদেশ ডেস্ক
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ ধর্মকে ব্যবসার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে না এবং ধর্ম মানুষের অন্তরের বিষয় হওয়ায় তা বিক্রি করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমরা অন্যান্য নেতার মতো বেহেশতের টিকিট বিক্রি করি না, বরং আমাদের কাজ ও ইবাদতের মাধ্যমে বেহেশতে পৌঁছানোর চেষ্টা করি।”
সোমবার (২৩ মার্চ) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলার হাট এলাকায় হেনা নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা সরকার গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি দল মা-বোনদের বেহেশতের টিকিট দেয়ার আশ্বাস দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। কিন্তু বেহেশতে পৌঁছানোর জন্য শুধুমাত্র নামাজ, রোজা ও সৎ কাজই কার্যকর।” তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎভাবে জীবন যাপন ও সৎ কাজ করতে হবে।
তিনি অনির্দিষ্ট আচরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং দলীয় কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শৃঙ্খলার গুরুত্বের দিকে নজর দিয়ে তিনি বলেন, “শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। গায়ের জোরে আইন অমান্য করে কোনো কাজ করা যাবে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র কয়েক দিন, তাই আমাদের কাজের সময় ও সুযোগ দিতে হবে।”
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি যোগ করেন, “কৃষকের উন্নয়ন দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।” এছাড়া চলমান বৈশ্বিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা মোকাবেলায় সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, খাল খনন প্রকল্পে দায়িত্বশীলতার অভাব বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে দলীয় নেতা, শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় পুলিশ সুপার বেলল হোসেন, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম পর্যায়ে শালিকষা থেকে সিন্দুরনা মৌজা পর্যন্ত ৫.৮ কিলোমিটার খাল খনন করতে প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি আগামী ২৫ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।


