সারাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রূপন কান্তি দে (৪২) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হারবাং ইউনিয়নের হারবাং পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়।
মৃত রূপন কান্তি দে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা, মৃত হরিপদ দের ছেলে। তিনি হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় একজন অন্য পুলিশ কর্মকর্তা, এসআই মোফাজ্জল হোসেনও অসুস্থ হয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা স্থানীয় যুবলীগ কর্মী জুনাইদকে হারবাং এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ দল অভিযান পরিচালনা করে। এসআই মোফাজ্জলের নেতৃত্বে রূপন কান্তি দে ও অন্যান্য পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। অভিযানকালে জুনাইদের সঙ্গে কিছুটা কথাকাটাকাটি হয়, সেই সময় রূপন কান্তি দে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রূপনকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ডা. জায়নুল আবেদীন, প্রধান চিকিৎসক, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানান, মৃত অবস্থায় আনা রূপনের শরীরে কোন বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, এএসআই রূপন আগেই হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং পূর্বে দুইবার স্ট্রোকের কারণে হার্টে রিং প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। সুতরাং মূলত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।
ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযানের সময় রূপন কান্তি দে জুনাইদের প্যান্টের বেল্ট ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্যান্য পুলিশ সদস্য তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। এই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপন কান্তি দের মৃত্যু ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হারবাং পুলিশ ফাঁড়ি ও চকরিয়া থানা এ বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা বলেন, রূপন কান্তি দের মৃত্যু একটি আকস্মিক হৃদরোগজনিত ঘটনা এবং এতে অপরাধমূলক বা সহিংস উপাদান নেই। তবে এই ধরনের অভিযানে পুলিশের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
রূপন কান্তি দে চকরিয়া থানার একজন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং স্থানীয় পুলিশি কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু স্থানীয় পুলিশ বিভাগের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


