যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাকে ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছে ইরান: শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাকে ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছে ইরান: শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধ অবসানের নামে প্রস্তাবিত আলোচনা আসলে একটি কৌশল হতে পারে, যার মাধ্যমে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাইরে এনে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার চেষ্টা করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের নীতিনির্ধারক মহল বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য মুখোমুখি আলোচনা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিরাপত্তাহীন অবস্থানে ফেলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে আলোচনায় অংশ নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

গালিবাফ ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি পূর্বে আধা-সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরও সক্রিয় থাকা উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। সম্ভাব্য আলোচনায় তার উপস্থিতির ওপর জোর দেওয়াকে ইরানি কর্মকর্তারা কৌশলগত ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে তেহরানের। বিশেষ করে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণাকে ইরানি কর্মকর্তারা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো আলোচনা চলমান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের বক্তব্যের এই পার্থক্য আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ধরনের পারস্পরিক অবিশ্বাস কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আলোচনার পরিবেশে আস্থার ঘাটতি বজায় থাকে, তাহলে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষের কৌশলগত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত আগামী দিনের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ