সারাদেশ ডেস্ক
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৬ জন পুরুষ রয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে রাত ১১টার দিকে ‘হামজা’ নামের উদ্ধারকারী জাহাজের মাধ্যমে বাসটি নদী থেকে তোলেন। বাসের ভেতর এবং পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মো. আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদরের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), একই গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দের ছোট ভাকলার চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭) এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরমান খান (৩১)।
এছাড়া কালুখালীর মহেন্দ্রপুরের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), বড় চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী জোসনা (৩৫), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা আশুলিয়ার বাগধুনিয়া পালপাড়া এলাকার নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান, কালুখালীর মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ৬ বছরের সন্তান আব্দুর রহমান, রাজবাড়ী সদরের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮) এবং ভবানীপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) অন্তর্ভুক্ত।
উদ্ধারকর্ম ও নিহতদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় শোকার্ত পরিবারগুলো হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও দুর্ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছেন। এখনও অনেক পরিবার নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে উদ্বিগ্নভাবে খোঁজ চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছেন, নদী থেকে আরও কিছু মরদেহ উদ্ধার হতে পারে, তাই তল্লাশির কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।


