অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে মজুদকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ টন, অকটেন ৯ হাজার ২১ টন, পেট্রল ১২ হাজার ১৯৪ টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ টন, জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ টন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জ্বালানি মজুদ বর্তমানে স্বাভাবিক মাত্রায় রয়েছে এবং শীত ও অন্যান্য মৌসুমী চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। এই মজুদ সরকারী সংস্থা ও বেসরকারি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে রাখা হচ্ছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে। এছাড়া, দেশের তেলভিত্তিক শিল্প ও যানবাহন খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে তেল আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যথেষ্ট মজুদ থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা কম। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ওঠানামা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সমস্যার কারণে তেলের দাম ও মজুদ পরিস্থিতি সরব দেখা দিতে পারে। এ কারণে সরকার পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে এবং প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণের প্রস্তুতি রেখেছে।
এর পাশাপাশি, পরিবেশ ও জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার এবং অপচয় কমানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দেশীয় জ্বালানি মজুদ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।
তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েল দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি চাহিদার প্রধান জ্বালানি। পেট্রল এবং অকটেন মূলত যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। জেট ফুয়েল ও মেরিন ফুয়েল বিমান ও নৌপরিবহনে ব্যবহৃত হয়। সঠিক মজুদ এবং বিতরণ ব্যবস্থার কারণে ভোক্তাদের সরবরাহে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।
সরকারের এই তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনগণ এবং শিল্পখাতকে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, দেশের জ্বালানি চাহিদা স্বাভাবিকভাবে পূরণ করার জন্য পর্যাপ্ত মজুদ বিদ্যমান।


