জাতীয় ডেস্ক
ঢাকার অদূরে আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। পরিদর্শনকালে সেবাদান কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এসব প্রশাসনিক দুর্বলতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ ভূমিসেবা প্রদানে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর পদক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট দুটি রাজস্ব কার্যালয়ের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা। দীর্ঘ দিন ধরে ভূমি সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনীহা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সাধারণ মানুষকে নানামুখী হয়রানি ও আর্থিক ভোগান্তির শিকার হতে হতো। তবে সাম্প্রতিক এই বিশেষ তদারকি ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার কারণে কার্যালয় দুটির কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতিশীলতা ফিরে এসেছে।
আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা রজিবুল আলম জানান, মন্ত্রণালয়ের তদারকির পর কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফাইলের কাজ আগের চেয়ে দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। আমিনবাজারের বাসিন্দা রোজিনা খাতুনও অনুরূপ সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে সেবা প্রক্রিয়ায় গতি বেড়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই সুফল দীর্ঘমেয়াদী করতে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
ভূমি প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল জানান, জনগণকে হয়রানিমুক্ত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। ভূমিসেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতা বরদাশত করা হবে না। মানুষের দোরগোড়ায় স্বচ্ছ ও সহজ উপায়ে আধুনিক ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে দেশব্যাপী এই প্রশাসনিক তদারকি ও আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ভূমি অফিসগুলোতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অত্যন্ত কার্যকর। শুধু পরিদর্শনই নয়, ডিজিটাল ভূমিসেবার সম্প্রসারণ এবং দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে সরকারি সেবা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পাবে।


