আইন ও আদালত ডেস্ক
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাদীপক্ষ।
বুধবার (১০ জুন) রায় ঘোষণার আগে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, বিগত পাঁচ বছর চার মাসেরও বেশি সময় ধরে শুধুমাত্র ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তারা এই আইনি লড়াই পরিচালনা করে আসছেন। আদালতে বাদীর পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রমাণ ও ঘটনার বাস্তব চিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামিপক্ষ গণমাধ্যমে আগাম খালাস পাওয়ার দাবি করলেও, আদালত সম্পূর্ণভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ের পর ২০২১ সালে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন এই মামলা দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ ছিল, তার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তামিমা ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া বিবাহবিচ্ছেদের নথিপত্র তৈরি করা হয়েছিল।
বাদীপক্ষের আইনজীবী স্পষ্ট করেন, এই মামলা কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হয়রানি বা সাবেক স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। বরং আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া এবং একটি প্রতিষ্ঠিত বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় থাকা অবস্থায় অন্য সম্পর্কে জড়ানোর সামাজিক ও আইনি প্রভাবের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, যথাযথ ডিভোর্স না দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে পুনরায় বিয়ে করার মতো ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এর ফলে পরিবার ও সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন সময় মামলার বাদীপক্ষকে আপসের প্রস্তাবসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে যাতে সমাজ একটি বার্তা পায় যে, একসঙ্গে একাধিক সংসার পরিচালনা বা ডিভোর্স ও নথিপত্রে জালিয়াতি আইনত ও সামাজিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
আইনজীবীদের মতে, এই মামলার রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই রায় ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী জালিয়াতি এবং পরকীয়া সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। সারা দেশের মানুষের নজর এখন এই রায় এবং এর আইনি প্রতিফলনের দিকে।


