অপরাধ ডেস্ক
সাভারে মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আসামির সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত থেকে ওই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে সাভার পৌর এলাকার কাঞ্চনপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান একটি নিয়মিত মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে কাঞ্চনপুর মহল্লায় অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাদা পোশাকে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ সদস্যরা সফলভাবে রফিকুলকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে আটকের পরপরই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, রফিকুল ইসলামকে যখন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, চড় এবং ইট দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আকস্মিক এই হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর জখম হন। এই সুযোগে হামলাকারীরা পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি রফিকুলকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই আহত এসআই এস এম শামীম ও এএসআই মশিউর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত কর্মকর্তাদের শরীরে এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছিনতাই হওয়া আসামি রফিকুল ইসলাম সাভার পৌর এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে এলাকায় একটি সুসংগঠিত মাদকচক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারের হামলায় যারা অংশ নিয়েছিল, তারা মূলত ওই মাদক চক্রেরই সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছিল বলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার পর সাভার মডেল থানা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান এবং আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাভার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় সুনির্দিষ্ট এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া আসামিকে পুনরায় আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে এবং অপরাধী চক্রের যেকোনো ধরনের তৎপরতা দমনে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


