জাতীয় ডেস্ক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তিন দিনের আনুষ্ঠানিক সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাচ্ছেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা। তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, খলিলুর রহমানের সফরের সময় তিনি শুধুমাত্র ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন না, বরং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংক্রান্ত নানা ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ভিসা সহজীকরণ, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল বা প্রত্যাহার, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হবে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুফলের ভিত্তিতে আরও স্বাভাবিক ও গতিশীল হয়।
সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের পুনর্গঠনের পর বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সফর শুরু হবে। পরের দিন ৮ এপ্রিল তিনি এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। একই দিনে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং জ্বালানি মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
দিল্লি সফর শেষে খলিলুর রহমান ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দেবেন, যা পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, ৯ এপ্রিল সকালে তিনি দিল্লি ত্যাগ করে মরিশাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে ১১ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরটি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতাকে জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


