বাংলাদেশ ডেস্ক
জ্বালানি তেল ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হবে।
ব্রিফিংয়ে জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশে এখনো তা সমন্বয় করা হয়নি। তবে আগামী মাসে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা-যোগানের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকায় জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে, যদিও তা গুরুতর সংকট পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে যে দীর্ঘ লাইন বা সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ উঠছে, তার একটি বড় কারণ হচ্ছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারের চেষ্টা। এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। প্রস্তাবিত অ্যাপ চালু হলে কে কখন কত পরিমাণ জ্বালানি কিনছেন, তার একটি কেন্দ্রীভূত তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি খাতের পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থাপনায়ও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে অটোরিকশা চলাচল নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, অনেক অটোরিকশার ফিটনেস সঠিকভাবে যাচাই করা হয় না এবং চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে আইন ও নীতিগত বিষয়েও কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। সংসদে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত নয়। এ বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে হামের টিকা সংকট বর্তমান সরকারের সময় সৃষ্টি হয়নি; এটি পূর্ববর্তী সময়ের অব্যবস্থাপনার ফল। সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে ব্রিফিংয়ে জ্বালানি সরবরাহ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, পরিবহন নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে সরকারের চলমান উদ্যোগ ও পরিকল্পনার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


