বিনোদন ডেস্ক
টানা ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত সাইবার বুলিং ও ট্রলিংয়ের শিকার হওয়ার পর এবার ভিকটিম ব্লেমিং ও অপরাধীদের মানসিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন দেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি অনলাইন বুলিংকারীদের মনস্তত্ত্ব, সমাজে ভিকটিম ব্লেমিংয়ের নেতিবাচক সংস্কৃতি এবং ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলমান এই মানসিক লাঞ্ছনা নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট ও নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
ভিডিও বার্তায় প্রভা সাইবার বুলিংকারীদের মানসিকতা বিশ্লেষণে হিউম্যান সাইকোলজি ও মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার সূত্র উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রিটি বা শিল্পীদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য, ট্রল কিংবা মৌখিক নির্যাতন (ভার্বাল অ্যাবিউজ) চালান, তারা মূলত নিজেদের জীবন, যোগ্যতা, সৌন্দর্য ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের আক্রমণকারীরা নিজেদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নন এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ হতাশা ও দুঃখ ঢাকতেই তারা অন্যদের অবদমিত করার পৈশাচিক আনন্দ খোঁজেন।
অভিনেত্রী সমাজে প্রচলিত অপরাধী ও ভিকটিমের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ বা ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের ছবি প্রকাশ ও কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি হলেও, সাইবার অপরাধ ও সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ফাঁসের (প্রাইভেসি ডিসক্লোজার) মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজ এখনো ভিকটিমকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাকে ক্রমাগত ট্রল করার মানসিকতার ৫০ শতাংশও যদি মূল অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতো, তবে সমাজে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটত না। সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয় জনসমক্ষে আনা যে একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ, সমাজ এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রভার এই বক্তব্য বাংলাদেশে সাইবার বুলিং, অনলাইন হ্যারাসমেন্ট এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। ভিকটিমকে দোষারোপ করার এই সংস্কৃতি যদি বন্ধ না হয়, তবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে এবং ইন্টারনেটে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রভার এই সাহসী প্রতিবাদ মূলত দেশের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি জোরালো আহ্বান।


