রাজধানী প্রতিনিধি
রাজধানীর শ্যামলী এলাকার সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে যুবদলের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতা মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে মঈন উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি দলবল নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করে এবং পরবর্তীতে তা সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হয়। ফুটেজে তাকে দলবলসহ হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।
ঘটনার পর মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ সংগঠনের একাধিক নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে যান। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেন। এ সময় যুবদল নেতারা দাবি করেন, অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন যুবদলের কোনো পর্যায়ের সদস্য নন এবং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাপের মধ্যে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে মৌখিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হলেও পরে বিভিন্ন সময় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
ডা. কামরুল ইসলাম আরও জানান, হাসপাতালটিতে প্রায় চার শতাধিক কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সীমিত বেতনে কাজ করেন। পাশাপাশি রোগীদের জন্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ ধরনের চাপ ও হুমকি পরিস্থিতি অস্থিরতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, মঈন উদ্দিন নামের কোনো ব্যক্তি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সংগঠনের কেউ চাঁদাবাজি বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, একাধিক সময়ে হাসপাতালের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংগঠিতভাবে প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক দাবি তোলার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ট্যাগ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে জনসমক্ষে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জিডি ও অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


