ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন; প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও নতুন হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন; প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও নতুন হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জাতীয় ও রাজনৈতিক ডেস্ক

দেশের চিকিৎসা শিক্ষার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর তিনি ক্যাম্পাস চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় নবনির্মিতব্য দু’টি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নতুন আবাসন সুবিধা আবাসনসংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করবে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নেন। সভায় দেশের চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সর্বসাধারণের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ আট দশকের গৌরবময় পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে ঐতিহাসিক এই চিকিৎসালয়টিকে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম প্রধান বাতিঘর হিসেবে কাজ করে আসছে। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের নানা ঐতিহাসিক সংকটে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠার এই বিশেষ ক্ষণে নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঢামেকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ