গুলশানে বিএনপি নেতার বাসভবনে কূটনীতিকদের নৈশভোজ,

গুলশানে বিএনপি নেতার বাসভবনে কূটনীতিকদের নৈশভোজ,

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে রাজধানীর গুলশানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপানসহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এই নৈশভোজে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তার সহধর্মিণী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলরও এতে অংশ নেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কূটনৈতিক এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ভারত, জাপান, নেপাল, ইতালি ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে অংশগ্রহণকারী কূটনীতিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

নৈশভোজে দেশের শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনজন শীর্ষ শিল্পপতি। তারা হলেন—প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান এমডি আবুল কালাম আজাদ এবং এলিট পেইন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজউক সিরাজ। তাদের উপস্থিতি দেশের বেসরকারি খাতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আয়োজক ড. আবদুল মঈন খান জানান, নৈশভোজ শেষে কূটনীতিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অর্থনীতি, বৈদেশিক কূটনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রাধান্য পায়।

এছাড়া দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং সুশাসনের বিষয়গুলো নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। বিশেষভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, কূটনৈতিক মহল এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতেও এসব আয়োজন ভূমিকা রাখে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও মতবিনিময় দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ