সার ও বীজ বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নতুন নীতিমালা কার্যকর, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ জোরদার

সার ও বীজ বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নতুন নীতিমালা কার্যকর, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ জোরদার

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় সংসদে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, কৃষকদের মাঝে সময়মতো সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের হয়রানি রোধে সরকার একাধিক প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও মাঠপর্যায়ে সহজপ্রাপ্য করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ সংসদ অধিবেশনে নীলফামারী-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সার ও বীজের সঠিক চাহিদা নিরূপণ এবং তা যথাসময়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

কৃষি মন্ত্রী আরও জানান, সার বিতরণ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ‘সার ডিলার ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন ও কার্যকর করা হয়েছে, যা গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে সার সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে নিয়োজিত ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের কাছে সার সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমে আসে।

মন্ত্রী জানান, দেশে কৃষিজমির পরিমাণ ও পূর্ববর্তী বছরের আবাদ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতি বছরের শুরুতে রাসায়নিক সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় এবং সে অনুযায়ী বার্ষিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশেষ করে রবি মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) ফসল উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ওই সময়ের চাহিদা বিবেচনায় রেখে মাসওয়ারী বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে পরবর্তী মাসের সারের বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনটি কৃষি মৌসুম শুরুর অন্তত দুই মাস পূর্বেই বিভিন্ন ফসলের বীজের চাহিদা নিরূপণ করা হয় এবং সে তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। এর ফলে সময়মতো বীজ সরবরাহ পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয় এবং কৃষকরা মৌসুমের শুরুতেই প্রয়োজনীয় উপকরণ পেতে পারেন।

তিনি আরও জানান, সরকারের কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা উৎপাদন ঘাটতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের প্রশ্নের উত্তরে কৃষি মন্ত্রী বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’-এর আলোকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ডিলারদের সমন্বয়ে নতুন সার ডিলারশিপ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যেসব ডিলার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হবে বা উপকরণ সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করেই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সার ও কীটনাশক ডিলারশিপ বাতিলেরও বিধান রয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ