কূটনৈতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। এই গৌরবময় অর্জনকে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিসকে পরাজিত করে বৈশ্বিক এই মর্যাদাপূর্ণ পদের দায়িত্ব লাভ করেন ড. খলিলুর রহমান। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৯০টি ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ ৯৯টি ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করে, যেখানে সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১টি ভোট। জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাব এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বমঞ্চে বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন পরবর্তী এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ড. রহমানের দক্ষ দিকনির্দেশনায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বের সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ সাধারণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা পালন করে যাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সার্বিক সাফল্য কামনা করে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ চার দশক পর বাংলাদেশ পুনরায় বিশ্বসংস্থার এই শীর্ষ পদের নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব অর্জন করল। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, আঞ্চলিক আবর্তনের ভিত্তিতে এবারের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল, যেখানে বাংলাদেশ তার বলিষ্ঠ কূটনীতির মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে।
নব-নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই বহুপাক্ষিক সংস্থার সভাপতিত্বের কার্যভার গ্রহণ করবেন। আগামী এক বছরের জন্য তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তা এবং জাতিসংঘ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের সমন্বয়ে নেতৃত্ব দেবেন।


