ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত এবং শান্তি আলোচনায় সক্রিয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত এবং শান্তি আলোচনায় সক্রিয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি। তবে ওই হামলায় গুরুতর আহত হওয়া এবং পরবর্তীতে জনসমক্ষে না আসায় তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন চলছিল।

মার্কিন সিনেট কমিটির সামনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে মোজতবা খামেনি আলোচনার প্রক্রিয়ায় কোনো না কোনো পর্যায়ে ক্রমশ সম্পৃক্ত হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুরক্ষার স্বার্থে তিনি সরাসরি জনসমক্ষে বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উপস্থিত না হলেও, নির্দিষ্ট মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নিজের বার্তা ও সিদ্ধান্ত পাঠাচ্ছেন। তেহরানের শাসনব্যবস্থায় তাঁর অবস্থান এখনও অত্যন্ত সুসংহত এবং যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

শুনানিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রুবিও জানান, ইরান যদি কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয় এবং জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের কড়াকড়ি প্রত্যাহার করে, তবুও দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিথিল হবে না। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানকে এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ এবং তা কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিষেধাজ্ঞা আরোপের মূল কারণ তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম। তেহরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ করতে অথবা উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে সম্মত হয়, তবেই কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি ওয়াশিংটন বিবেচনা করবে। এই আলোচনা অত্যন্ত প্রযুক্তিগত হওয়ায় তা চূড়ান্ত রূপ নিতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এটিও দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরান অতীতে অস্বীকৃতি জানানো কিছু স্পর্শকাতর পারমাণবিক সামরিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে। যদিও এই নমনীয়তা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না বলে মার্কিন নীতিপ্রণেতারা মনে করছেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যেকার সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয়। এর পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয় এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওমান, কাতার ও মিশরের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক সক্ষমতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধানসূত্র এখনো অধরা রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ