অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ ও অবৈতনিক করার ঘোষণা

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ ও অবৈতনিক করার ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর পঞ্চম থেকে উন্নীত করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এই স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে ‘গণসাক্ষরতা অভিযান’ আয়োজিত এই সভায় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা কেবল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং তা সরকারি পর্যায়ে অবৈতনিক। তবে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ৪ থেকে ১৩ বছর বয়সী সকল শিশু এই সুবিধার আওতায় আসবে। অর্থাৎ, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী কোনো প্রকার টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা প্রাথমিক শিক্ষার গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এটি একটি বৃহৎ কর্মযজ্ঞ এবং আমরা ধাপে ধাপে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ঝরে পড়া রোধে এই উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশে ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেই প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজ এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বেগবান হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তবে এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অবকাঠামো এবং শিক্ষক সুবিধার আওতায় আনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত করলে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের হার বৃদ্ধি পাবে। তবে এই কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি এই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ