অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
রাজধানীর জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ফুয়েল পাস’ পদ্ধতিতে সুফল পেতে শুরু করেছেন গ্রাহকরা। নির্দিষ্ট পাম্পগুলোতে কিউআর কোডভিত্তিক এই ডিজিটাল পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার পর থেকে চিরচেনা দীর্ঘ যানজট ও অন্তহীন অপেক্ষার ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরেজমিনে শাহবাগ, আসাদগেট ও মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দেখা গেছে, আগের তুলনায় অনেক দ্রুততম সময়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন যানবাহন চালকরা।
পরিবর্তিত চিত্র ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা
কয়েকদিন আগেও রাজধানীর প্রধান ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি পেতে চালকদের ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি ছিল চরমে। তবে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যকর হওয়ার পর শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস স্টেশনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ভোরের দিকে মোটরসাইকেলের সারি থাকলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তেল সংগ্রহ করে গন্তব্যে ফিরতে পারছেন চালকরা। বর্তমানে নতুন নিয়মে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকার জ্বালানি নিতে পারছে। তেল নেওয়ার আগে নির্ধারিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হচ্ছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত করছে।
পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশন
জ্বালানি বিতরণে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধে প্রাথমিকভাবে রাজধানীর সাতটি নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। স্টেশনগুলো হলো: শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং মিরপুর দারুস সালামের খালেক সার্ভিস স্টেশন। এসব কেন্দ্রে ফুয়েল পাস ছাড়া পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও সচেতনতা
ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে শৃঙ্খলার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেক চালক আগাম তথ্য না থাকায় পাম্পে এসে কিউআর কোড ছাড়া জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সাময়িক বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ চালকদের জন্য বিষয়টি শুরুতে কঠিন মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ইতিবাচক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সচেতনতার অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারলে এই ব্যবস্থা জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সক্ষম হবে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিউআর কোড ভিত্তিক এই বিতরণ ব্যবস্থা বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের একটি বড় পদক্ষেপ। এটি কার্যকর হওয়ার ফলে পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খল দীর্ঘ লাইনের সংস্কৃতি হ্রাস পাচ্ছে এবং সময় সাশ্রয় হচ্ছে। যদি এই ব্যবস্থার যথাযথ তদারকি ও সচেতনতা কার্যক্রম চলমান থাকে, তবে রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি স্থায়ীভাবে লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি বিতরণ ব্যবস্থা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের নতুন অধ্যায়।


