জ্বালানি বহুমুখীকরণে কানাডার সাসকাচোয়ানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ

জ্বালানি বহুমুখীকরণে কানাডার সাসকাচোয়ানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎসে বৈচিত্র্য আনতে কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই সহযোগিতার আওতায় প্রচলিত জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির পাশাপাশি উদীয়মান স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসিম উদ্দিনের সাম্প্রতিক সরকারি সফরে প্রদেশটির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

সফরের মূল অংশে হাইকমিশনার সাসকাচোয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি কৃষি, খাদ্যপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল, গবেষণা এবং জ্বালানি খাতে সমন্বিত সম্পৃক্ততা বাড়াতে একটি ‘বাংলাদেশ-সাসকাচোয়ান সহযোগিতা কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রিমিয়ার স্কট মো এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় মেয়াদে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উক্ত বৈঠকে প্রাদেশিক বাণিজ্য ও রপ্তানি উন্নয়নমন্ত্রী ওয়ারেন কেইডিং উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জ্বালানি মিশ্রণে বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের দাবি। হাইকমিশনার জসিম উদ্দিন প্রদেশটির জ্বালানি সম্পদমন্ত্রী ক্রিস বড্রি এবং কৃষিমন্ত্রী ডেভিড ম্যারিটের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ছোট আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এটি এমন একটি পারমাণবিক প্রযুক্তি যা প্রথাগত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কম জায়গা নেয় এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর। উভয় পক্ষ এই খাতে কারিগরি সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সাসকাচোয়ান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পটাশ সার ও কৃষি পণ্য আমদানি করে, যা দেশের খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। আলোচনায় কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং ক্যানোলা-ভিত্তিক ভোজ্য তেল উৎপাদনের মতো মূল্য সংযোজন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। সাসকাচোয়ান ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট পার্টনারশিপ (স্টেপ), সাস্কপাওয়ার এবং পেট্রোলিয়াম টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার (পিটিআরসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

কূটনৈতিক এই তৎপরতায় একাডেমিক ও সামাজিক সংযোগও গুরুত্ব পেয়েছে। হাইকমিশনার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার প্রেসিডেন্ট ড. জেফ কেশনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের আহ্বান জানান। এছাড়া রেজিনায় গভর্নমেন্ট হাউসে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্নাডেট ম্যাকইনটাইর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং সাসকাচোয়ান আইনসভার অধিবেশনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে তা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরবর্তী পর্যায়ে এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন নিয়ে কাজ করার সম্মতি রয়েছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ