মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ইউএস-বাংলার সব রুটে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ইউএস-বাংলার সব রুটে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে পুনরায় নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট সূচি কার্যকর করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সাম্প্রতিক সংঘাত ও আকাশসীমা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিঘ্নিত হওয়া ফ্লাইটগুলো বুধবার থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল শুরু করেছে। একই সাথে ঢাকা-দোহা রুটে স্থগিত থাকা ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণাও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রুটভিত্তিক ফ্লাইট সূচি ও পরিচালনা
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বর্তমানে দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, মাসকাট, দোহা, রিয়াদ ও জেদ্দা রুটে তাদের নির্ধারিত সব ফ্লাইট নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্থগিত থাকা ঢাকা-দোহা রুটে আগামীকাল ২৩ এপ্রিল থেকে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হবে। এই রুটে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা থেকে বিমান ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় দোহা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা করবে।

অন্যান্য রুটের মধ্যে মাসকাটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও ফেরার পথে সেটি চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় অবতরণ করছে। দুবাই রুটে প্রতিদিন চট্টগ্রাম হয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া আবুধাবি রুটে বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহে ছয় দিন এবং শারজাহ রুটে সপ্তাহে চার দিন যাতায়াত করছে সংস্থাটির উড়োজাহাজ। সৌদি আরবের রিয়াদ রুটে সপ্তাহে পাঁচ দিন (শুক্র, শনি, রবি, মঙ্গল ও বুধবার) এবং জেদ্দায় সপ্তাহে তিন দিন (রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার) ফ্লাইট চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে।

বহর ও সক্ষমতা
দীর্ঘ দূরত্বের রুটগুলোতে যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় বড় উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে সংস্থাটি। রিয়াদ ও জেদ্দা রুটে বর্তমানে ৪৩৬ আসন বিশিষ্ট ‘এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০’ ব্যবহার করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রুটগুলোতে মূলত ‘বোয়িং ৭৩৭-৮০০’ এয়ারক্রাফট ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইউএস-বাংলার বহরে বর্তমানে তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ এবং নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ মোট ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনা এবং আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক সব এয়ারলাইন্সের মতো ইউএস-বাংলার সূচিতেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হওয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াতে গতি আসবে এবং টিকিটের সংকট লাঘব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে সৌদি আরবের মদিনা ও দাম্মাম রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কলকাতা, চেন্নাই, মালে, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও গুয়াংজু রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রম চালুর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ