জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি, স্বতন্ত্র জোট ও জামায়াত সমর্থিত মোট ৪৯ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই দিনব্যাপী নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আজ বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান এই সিদ্ধান্ত জানান।
তফসিল অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে গত দুই দিন ধরে প্রার্থীদের দাখিল করা নথিপত্র যাচাই করা হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থী এবং তাদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও সঠিক পাওয়া গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁইয়ের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে যে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে তারা হলেন— নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম। উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হওয়ায় কমিশন তার আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে জামায়াত জোটের ভাগে থাকা ১৩টি আসনের মধ্যে একটি আসন বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আইন অনুযায়ী এই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলে উন্মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর আইন অনুযায়ী তিন বছর সময় অতিবাহিত না হওয়ায় জামায়াত জোটের শরিক এনসিপি প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আরও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন বাতিল করেছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরবর্তী কার্যক্রম অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আগামী ২৬ এপ্রিল আপিল দায়ের করতে পারবেন। ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল কর্তৃপক্ষ এই আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। এরপর ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং আগামী ১২ মে নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে সংরক্ষিত নারী আসন মূলত সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের এই বৈধতা পাওয়ায় নির্বাচনী তৎপরতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত এই আসনগুলো সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে জেন্ডার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


