টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে বিসিসিআইয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: বুমরাহকে নিয়ে সতর্ক ব্যবস্থাপনা

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে বিসিসিআইয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: বুমরাহকে নিয়ে সতর্ক ব্যবস্থাপনা

খেলাধূলা ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য উদ্‌যাপনের পর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এখন পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) দিকে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের পর ডব্লিউটিসি ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন দলের জন্য আসন্ন লাল বলের সিরিজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যাত্রায় দলের প্রধান অস্ত্র জসপ্রিত বুমরাহকে চোটমুক্ত ও সতেজ রাখতে একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচক মণ্ডলী ও টিম ম্যানেজমেন্ট।

বিসিসিআইয়ের কৌশলগত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বুমরাহকে পূর্ণ শক্তিতে পাওয়া। পেস বোলিংয়ের এই কান্ডারিকে অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে রক্ষা করতে সাদা বলের বেশ কিছু সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিসহ গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজগুলোর জন্য তাকে প্রস্তুত রাখাই এখন বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সূচি অনুযায়ী, আইপিএল পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে ভারত। যদিও এই ম্যাচটি বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রের অংশ নয়, তবুও দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়দের লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে এটি প্রস্তুতির বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস বিবেচনায় এই ম্যাচে বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর আগস্টে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চারটি টেস্টে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় বোর্ড।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে। এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের জন্য বুমরাহকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ রাখতে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজগুলোতে তাকে দলের বাইরে রাখা হতে পারে। নির্বাচক প্যানেলের ঘনিষ্ঠ সূত্র মতে, বুমরাহকে কোন সিরিজে খেলানো হবে এবং কোথায় বিশ্রাম দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে লাল বলের ক্রিকেটে তার প্রয়োজনীয়তার ওপর। এমনকি ২০২৭ সালের আইপিএল পরবর্তী ডব্লিউটিসি ফাইনাল নিশ্চিত হলে, তার আগের সিরিজগুলোতেও তাকে সতর্কভাবে ব্যবহার করা হবে।

এদিকে, ঠাসা ক্রীড়াসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক শুভমান গিল এবং প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবকে তারা বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গিল চাচ্ছেন বড় টেস্ট সিরিজের আগে খেলোয়াড়রা যেন লাল বলে পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ পান।

বিসিসিআইয়ের এই ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ নীতি কেবল বুমরাহর ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতেই নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য বজায় রাখার বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টটি ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড সফরের আগে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য এটি আদর্শ মহড়া হিসেবে কাজ করবে। প্লে-অফের চিত্র স্পষ্ট হওয়ার পর এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে বিসিসিআই।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ