এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে ইসরায়েলের ২০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি, ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল সরাসরি বৈঠক

এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে ইসরায়েলের ২০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি, ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল সরাসরি বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ অস্ত্রের মজুত শক্তিশালী করতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক গোলাবারুদ সরবরাহ করবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখতে এই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই চুক্তিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র উৎপাদন নিশ্চিত করা দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশপথে আধিপত্য বজায় রাখতে তাদের উৎপাদিত উন্নত গোলাবারুদগুলো বিশেষ কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সরবরাহ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তজনা এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কথা মাথায় রেখেই ইসরায়েল তাদের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ করেছে।

সামরিক প্রস্তুতির সমান্তরালে অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও দৃশ্যমান হচ্ছে। কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই সংলাপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী দেশ দুটি মার্কিন মধ্যস্থতায় সরাসরি কোনো আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কার্যকর থাকা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত ও নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত এক মাস বাড়ানোর প্রস্তাবটি এই বৈঠকে প্রধান্য পাবে। আগামী রবিবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে সীমান্তে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে, যা একটি স্থিতিশীল সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালো করছে।

ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা হ্রাসে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসাটাকেই বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ইসরায়েলের সামরিক খাতে বিশাল বিনিয়োগ এবং অন্যদিকে লেবাননের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক সংলাপ—এই দ্বিমুখী কৌশল এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের আলোচনার অগ্রগতি এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার ওপর।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ