হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। ইরানি বাহিনী কর্তৃক তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হওয়া এবং দুটি জাহাজ জব্দের খবরের পর বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যবৃদ্ধি সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৩ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারদর বা ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলার অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসন ইরানের সাথে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আশা থাকলেও সর্বশেষ সামরিক সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর সংকট লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের পণ্য বিনিময় কেন্দ্রগুলোর তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার ইরানি নৌবাহিনী তিনটি জাহাজে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং এর মধ্যে পানামা ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী দুটি জাহাজ জব্দ করে নিজেদের উপকূলে নিয়ে যায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে সামান্যতম অস্থিরতাও বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান এই জলপথকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ আটকের চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। এর ফলে কেবল উন্নত দেশগুলোই নয়, বরং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরবরাহ সংকটের এই পূর্বাভাস ইতিমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সদস্য দেশগুলোকে জরুরি মজুদ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ