সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, আপিলের ঘোষণা

সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, আপিলের ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। জামায়াত জোট সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাঁর মনোনয়ন অযোগ্য ঘোষিত হলো।

মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মনিরা শারমিন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর কাগজপত্র গ্রহণ করলেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ তিনি পাননি। যথাযথ শুনানির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করার দাবি জানিয়েছেন এই প্রার্থী।

জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট আইনি জটিলতা এবং তিন বছরের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে মনিরা শারমিন এই সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, যে আইনের ভিত্তিতে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেটি বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আপিল বিভাগে ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মনিরা শারমিনের আইনজীবী নাজমুস সাকিব জানান, প্রার্থিতা ফিরে পেতে আগামী রবিবার (২৬ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল দায়ের করা হবে। তাঁদের দাবি, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে আপিলে প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও মনিরা শারমিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর তাঁর মনোনয়ন বাতিল করার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট জোটের প্রার্থীর সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়াল।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারেন। কমিশনের আপিল কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে। সংরক্ষিত আসনের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি প্রার্থীর যোগ্যতা ও হলফনামার তথ্য কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কমিশন। মনিরা শারমিনের আপিলটি এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ