ক্রীড়া ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি। যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব রয়েছে তাদের ঝুলিতে। তবে সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না ‘ডাই মানশ্যাফট’দের। গত দুটি বিশ্বকাপ আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের, যা ফুটবল বিশ্বে বড় ধরনের বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল। তবে আসন্ন ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ নিয়ে নিজ দেশের ফুটবল দলের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন জার্মান টেনিস তারকা আলেকজান্ডার জেভেরেভ।
দেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো বড় শিরোপা এনে দেওয়ার অনুভূতি জেভেরেভের বেশ ভালোভাবেই জানা। পাঁচ বছর আগে টোকিও অলিম্পিকে টেনিসের পুরুষ এককে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। প্রথম জার্মান অ্যাথলেট হিসেবে এই রেকর্ড গড়ার পর তৎকালীন ফুটবল তারকা বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগার তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার রেশ এবং দেশের ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই জেভেরেভ মনে করছেন, এবার জার্মান ফুটবল দল বিশ্বমঞ্চে হারানো গৌরব ফিরে পেতে সক্ষম।
ফিফাকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই শীর্ষ তারকা আসন্ন আসরে জার্মানির সম্ভাবনা নিয়ে তার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিগত দুই আসরের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাটিয়ে এবার দলটি অনেক বেশি সুসংগঠিত। জেভেরেভ বলেন, “আসন্ন বিশ্বকাপে জার্মানির ভালো সম্ভাবনা আছে বলে আমি মনে করি। গত দুটি আসরে যে ধরনের পারফরম্যান্স তারা করেছে, এবার তার চেয়ে অনেক ভালো খেলবে। বর্তমানে দলটিতে অনেক তরুণ প্রতিভা রয়েছে এবং আমার কাছে মনে হচ্ছে তারা বড় অর্জনের জন্য প্রস্তুত।”
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ ভক্ত এই খেলোয়াড় জানান, ২০০৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখা ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন পূরণ। সেই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত জার্মানির বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার তার প্রিয় তালিকায় রয়েছেন। তিনি জানান, বড় হওয়ার পথে কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান ছিলেন তার প্রধান আদর্শ। এছাড়া ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগার, লুকাস পোডলস্কি, মানুয়েল নয়ার এবং বিশেষ করে টনি ক্রুসকে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করেন।
এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ২৯ বছর বয়সী জেভেরেভ ক্যারিয়ারে একাধিক বড় সাফল্য পেলেও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ট্রফিটি এখনো তার জন্য অধরা। ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসবে, ঠিক তখনই লন্ডনের উইম্বলডন টেনিস টুর্নামেন্ট চলার কথা। ফলে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ তার হবে কি না তা নির্ভর করছে উইম্বলডনে তার অগ্রগতির ওপর। তবে শারীরিকভাবে যেখানেই থাকুন না কেন, মানসিকভাবে তিনি যে দলের সঙ্গেই থাকবেন তা স্পষ্ট করেছেন।
জেভেরেভের মতে, অলিম্পিকের বাইরে ফুটবল বিশ্বকাপই বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসব এবং প্রতি চার বছর অন্তর এই আয়োজন নিয়ে সবার মধ্যে যে উন্মাদনা কাজ করে, তা অতুলনীয়। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে মুখিয়ে থাকা জেভেরেভ ও তার দেশের কোটি সমর্থক এখন তাকিয়ে আছেন ডাই মানশ্যাফটদের পুনরুদ্ধারের অভিযানের দিকে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানি ‘ই’ গ্রুপে অবস্থান করছে। আগামী ১৪ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হওয়া দেশ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন শুরু করবে তারা। এই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হচ্ছে কোত দি ভোয়া ও ইকুয়েডর। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি এবার ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


