আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালীন গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে হামলাকারীকে জীবিত অবস্থায় আটক করার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ সাত থেকে আটটি গুলির শব্দ শোনা যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা জীবন বাঁচাতে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। তাৎক্ষণিকভাবে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা প্রেসিডেন্টের চারপাশ ঘিরে ফেলেন এবং তাকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেন।
ঘটনার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি বর্তমানে সুরক্ষিত আছেন। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে নিরাপত্তা বাহিনী জীবিত অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও চূড়ান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাতে সায় দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এটি পুনরায় আয়োজন করা হবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় অনুষ্ঠানস্থলে ফার্স্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টসহ সংরক্ষিত সকল ব্যক্তি নিরাপদে আছেন। তদন্তের স্বার্থে এবং সম্ভাব্য অন্য কোনো হুমকির আশঙ্কায় ঘটনার পরপরই হোটেলের প্রবেশ ও বাহির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অতিথিদের হোটেলের ভেতরেই অবস্থান করতে নির্দেশ দেয় পুলিশ।
যদিও পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় হোটেলের লকডাউন তুলে নেওয়া হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার ঘোষণা আসে, তবে প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পুনরায় সেখানে যোগ দেবেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলা কেন বা কী উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। ওয়াশিংটন ডিসির গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কীভাবে গোলাগুলির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সোয়াত টিম মোতায়েন করা হয়েছে।


