ভ্রান্ত তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারে বাংলাদেশের আহ্বান

ভ্রান্ত তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারে বাংলাদেশের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তথ্যের অখণ্ডতা রক্ষা, অপপ্রচার মোকাবিলা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তথ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভ্রান্ত তথ্য (Misinformation), বিভ্রান্তিকর প্রচারণা (Disinformation) এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যকে (Hate speech) চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক ও পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করছে। এ ধরনের সংকট নিরসনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উন্নত ও অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংকটে তথ্যের বিকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন। বিশেষ করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংকট মোকাবিলায় সঠিক তথ্য প্রচার এবং আন্তর্জাতিক জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি আমাদের একটি অন্যতম সাফল্য। তবে পিসকিপিং মিশনের বিরুদ্ধে চালানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার কার্যক্রমকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এই অপপ্রচার প্রতিহত করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতা জোরদারে একটি সমন্বিত ও ধারাবাহিক বৈশ্বিক প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে জাতিসংঘের মূলনীতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, তথ্যের অবাধ ও সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

আজ তথ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের বিস্তারিত জানানো হয়েছে। অধিবেশনে উপস্থিত সদস্য রাষ্ট্রগুলোও ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করে। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবনা বৈশ্বিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ