বাংলাদেশ ও ভুটানের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য

বাংলাদেশ ও ভুটানের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৫৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হওয়া সত্ত্বেও দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের হার মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিসংখ্যানকে সম্ভাবনার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল আখ্যা দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা কালে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্প দূরত্বে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন উভয় দেশের জন্য আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে। জলবিদ্যুতের পাশাপাশি সৌর শক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে।

ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি নতুন বাণিজ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের ঐতিহাসিক ও নিবিড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভুটান সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত ভৌগোলিক নৈকট্যের সুবিধা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের বুড়িমারি সীমান্ত থেকে ভুটানের দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটারের মতো। এই স্বল্প দূরত্বের কারণে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত সহজতর, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের জন্যই বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করে।

অর্থনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়গুলোও বৈঠকে স্থান পায়। রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বিপুল সংখ্যক ভুটানি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। শিক্ষা শেষে তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

আঞ্চলিক বাণিজ্যের গতিশীলতা আনয়ন এবং শুল্ক বাধা নিরসনে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনা মূলত ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের একটি কৌশলগত রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং ভুটানের মিনিস্টার কাউন্সিলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ দুই দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ