৫ হাজার অতিরিক্ত জনবল ও নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পিবিআইয়ের

৫ হাজার অতিরিক্ত জনবল ও নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পিবিআইয়ের

আইন আদালত ডেস্ক

দেশের চাঞ্চল্যকর ও জটিল অপরাধ মামলার তদন্তে বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের কাছে অতিরিক্ত ৫ হাজার জনবল নিয়োগ এবং নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটির অনুমোদিত জনবল ২ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে ২ জন ডিআইজি, ৫ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৪৯ জন বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি), ২৮ জন অতিরিক্ত এসএসপি, ৩২২ জন পরিদর্শক এবং অন্যান্য পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছেন। তবে ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ এবং তদন্তের পরিধি বিবেচনায় এই জনবলকে অপ্রতুল বলে মনে করছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত ৫ হাজার জনবল যুক্ত হলে সারা দেশে তদন্ত কার্যক্রম আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।

জনবলের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবনায়। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টিতেই পিবিআই ভাড়া বাড়িতে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভাড়া বাড়িতে তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষা এবং বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি স্থাপনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে সংস্থাটি নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে ২০টি সরকারি জায়গা ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পিবিআই প্রধান এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, ২০১২ সালে মাত্র ৯৭০ জন জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ইউনিটটি ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, আলামত সংগ্রহ এবং ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে ক্লুলেস মার্ডার এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলা নিষ্পত্তিতে পিবিআইর ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমন, সাইবার অপরাধ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠিত অপরাধ তদন্তে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী অবকাঠামো একান্ত প্রয়োজন। কাঙ্ক্ষিত জনবল ও নিজস্ব ভবন নিশ্চিত হলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংস্থাটির বর্তমান পরিবহন সুবিধায় ১৪টি জিপ, ৭১টি পিকআপ, ১৯০টি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত যানবাহন থাকলেও তা সারা দেশের বিস্তৃত কার্যক্রমের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। নতুন প্রস্তাবনায় লজিস্টিক সাপোর্টের আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পিবিআইর এই প্রস্তাবনাগুলো আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। গত ১৯ এপ্রিল পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকার প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করলে জেলা পর্যায়ে পিবিআইর সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্তের মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ