অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ড্রোন এবং বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. ইমরান চৌধুরী, মো. মোস্তাকিম চৌধুরী, রিপন হোসেন শেখ এবং আবু বক্কর। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার তারা মসজিদ সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকায় প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখান থেকে ইমরান চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার ছোট ভাই মোস্তাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি-রমনা বিভাগ কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং সেখান থেকে উগ্রবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রিপন হোসেন শেখ ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানে উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও তিনটি গুলির খোসা। এছাড়া তাদের হেফাজত থেকে একাধিক স্মার্টফোন, ডিভিআর, ল্যাপটপ এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক বই উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষ করে একটি ড্রোন এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশ, মাল্টিফাংশনাল চার্জার ও মেটাল ডিটেক্টর জব্দের ঘটনাটি বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণ নাগরিক বা বাণিজ্যিক কাজের বাইরে ড্রোনের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তির মজুদ কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা বা গোয়েন্দাগিরির ইঙ্গিত প্রদান করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা মূলত রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের কাজ চালাচ্ছিলেন। জব্দকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য টার্গেট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এন. এম. নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছে অত্যাধুনিক ডিভাইস ও আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহারের প্রচেষ্টা আধুনিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নতুন এক মাত্রা নির্দেশ করে। পুলিশি এই সফল অভিযান বড় ধরনের কোনো নাশকতার ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।


