দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সময়োপযোগী: শিল্পমন্ত্রী

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সময়োপযোগী: শিল্পমন্ত্রী

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর চলমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের বর্তমান শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিটাকের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, যা সরকারের বিনিয়োগের বিপরীতে উচ্চমাত্রার ইতিবাচক সুফল বয়ে আনছে।

মঙ্গলবার রাজধানীতে বিটাকের ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র এবং একই সাথে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী দেশের অতীত উন্নয়ন প্রকল্পের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, অতীতে দেশে এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যেগুলোর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। তবে বিটাকের এই প্রকল্পটিকে একটি ব্যতিক্রমী ও সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তিন মাস মেয়াদি এই নিবিড় প্রশিক্ষণ শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলে। এই মানবিক ও পেশাগত গুণাবলি তরুণদের কর্মজীবনে স্থায়ী সম্পদ হিসেবে কাজ করবে। প্রশিক্ষণের গুণগত মান ও এর কার্যকারিতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বিশেষ করে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সদ্য সমাপ্ত ব্যাচের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন, যা নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় অবদান রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে এই সফল প্রকল্পের সম্প্রসারণ অথবা ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে আরও হাজার হাজার উদ্যমী তরুণ-তরুণীকে কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিটাকের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি অবদান রাখছে। কোর্স শেষ হওয়ার আগেই দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরি লাভ করার বিষয়টিই এই কর্মসূচির সফলতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

শিল্প খাতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও বাস্তব চাহিদার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে সচিব বলেন, দেশের অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও দীর্ঘ সময় চাকরি পান না। অথচ বিটাকের এই স্বল্পমেয়াদি ও প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই তারা সহজে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বিটাকের কারিগরি প্রশিক্ষণের মান ও আধুনিক কারিকুলামের প্রতি দেশের প্রধান প্রধান নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর আস্থা রয়েছে।

আব্দুন নাসের খান আরও জানান, বিটাকের চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দেশের শিল্প খাতে এর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব এবং শতভাগ কর্মসংস্থানের সাফল্য বিবেচনা করে এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা সমমানের নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, বিটাক এখন শুধু দক্ষ চাকরিজীবী বা শ্রমিক তৈরি করছে না, বরং নতুন উদ্যোক্তাও সৃষ্টি করছে। উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখানে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজস্ব ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক মাত্রায় নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ