অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড গত ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের সর্বমোট ২ হাজার ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ এবং বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত ১ হাজার ৫৭৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ম্যারিকোর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০৬ টাকা ৯ পয়সা। আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ১৮৭ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ২ পয়সায়।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি রেকর্ড ৩ হাজার ৮৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৮৭ টাকা ৪৯ পয়সা এবং এনএভিপিএস ছিল ২৩৯ টাকা ১৩ পয়সা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল প্রতিষ্ঠানটি, যখন শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৪৬ টাকা ২৩ পয়সা। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল ম্যারিকো বাংলাদেশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ম্যারিকো বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানের সংস্কৃতি বজায় রেখেছে। যদিও গত অর্থবছরের তুলনায় মোট লভ্যাংশের হার কিছুটা কমেছে, তবে শেয়ারপ্রতি মুনাফায় ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এনএভিপিএস বা সম্পদমূল্যের পরিবর্তনের বিষয়টি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও লভ্যাংশ বণ্টনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
মুম্বাইভিত্তিক ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৯ সালে কোম্পানিটি দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৬৯৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
ম্যারিকো বাংলাদেশের মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ। এর মালিকানা বিন্যাসে দেখা যায়, বড় একটি অংশ অর্থাৎ ৯০ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে মূল উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। মূলত শক্তিশালী মৌলভিত্তি এবং নিয়মিত উচ্চ লভ্যাংশের কারণে পুঁজিবাজারে ব্লু-চিপ ক্যাটাগরির শেয়ার হিসেবে এটি পরিচিত।
দেশের এফএমসিজি খাতে ম্যারিকোর শক্তিশালী অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান মুনাফা জাতীয় অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নেওয়া হবে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এমন স্থিতিশীল পারফরম্যান্স বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশের পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করতে সহায়ক হবে।


