আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এই বৈঠকে শি জিনপিং দুই পরাশক্তির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংঘাত নয় বরং পারস্পরিক উন্নয়নের মাধ্যমেই বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রেসিডেন্ট শি তার উদ্বোধনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক কেবল দুই দেশের স্বার্থে নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, দুই দেশ সহযোগিতা করলে উভয়ই লাভবান হয়, আর সংঘাতে লিপ্ত হলে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সহাবস্থানের সঠিক পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনটি মূল স্তম্ভ ফুটে উঠেছে: পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সহযোগিতামূলক উন্নয়ন। তিনি বিশ্বাস করেন, এক দেশের উন্নয়ন অন্য দেশের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ। তার মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো অনেক বেশি বিস্তৃত। একটি স্থিতিশীল ও ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি রূপক অর্থে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে একটি ‘বিশাল জাহাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও এই জাহাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া তাদের যৌথ দায়িত্ব। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষার মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি জোর দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সরাসরি ও ইতিবাচক আহ্বান গত কয়েক বছরের উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে বাণিজ্য শুল্ক এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন ছিল, এই বৈঠকের মাধ্যমে তা নিরসনের একটি পথ উন্মোচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে, কারণ বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের সিদ্ধান্তই আগামী দশকের বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
পরিশেষে, চীনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় দেশ একে অপরের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বৈশ্বিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। বেইজিংয়ের এই ইতিবাচক অবস্থান বিশ্ব বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন এই সহযোগিতার আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের কৌশলগত নীতিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে।


