জাতীয় ডেস্ক
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ ট্রেনের চারটি বগি চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতাধীন এলাকায় ট্রেনটি আজিমনগর স্টেশন অতিক্রম করার সময় পেছনের চারটি বগির সংযোগকারী হুক হঠাৎ খুলে যায়। ফলে ইঞ্জিন ও সামনের বগিগুলো নিয়ে ট্রেনটি সামনে এগিয়ে গেলেও পেছনের কোচগুলো লাইনের ওপর থেমে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইঞ্জিনটি বগি ছাড়াই প্রায় ৪০০ গজ দূরে চলে গিয়েছিল। বিষয়টি চালকের নজরে আসার পর তিনি দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেন এবং ইঞ্জিনটি ‘পুশ ব্যাক’ করে পুনরায় বগিগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করেন।
দুর্ঘটনার সময় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও রেলকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ট্রেনটি মেরামত শেষে প্রায় ৩০ মিনিট পর সকাল ৮টার দিকে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হুক খুলে যাওয়ার পর বগিগুলো হঠাৎ থেমে যাওয়ায় যাত্রীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, তবে কোনো বগি লাইনচ্যুত হয়নি।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে বগিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ট্রেনটি পুনরায় সচল করা হয়।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “ট্রেনের পেছনের দুটি বগির সংযোগস্থলের হুক খুলে যাওয়ায় চারটি কোচ মূল ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে পড়েছিল। চালক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেন থামিয়ে দেন। রেলকর্মীদের প্রচেষ্টায় দ্রুত সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এই ঘটনার কারণে সংশ্লিষ্ট রুটে অন্য কোনো ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেনি। রেল কর্তৃপক্ষ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ খতিয়ে দেখছে।
বাংলাদেশে রেলওয়ের যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং বগিগুলোর সংযোগ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা রয়েছে। আজকের এই ঘটনাটি বড় কোনো দুর্ঘটনার রূপ না নিলেও, এটি রেলওয়ের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে আধুনিক ‘বায়ো-কাপলার’ বা উন্নত মানের হুক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে যাতে চলন্ত অবস্থায় এমন বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করা যায়। রেলওয়ে প্রকৌশলীদের মতে, নিয়মিত গ্রিজিং এবং জয়েন্টগুলো পরীক্ষা করা হলে এ ধরনের যান্ত্রিক বিচ্যুতি এড়ানো সম্ভব।


