কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯শ’ পার

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৯শ’ পার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নয়শত ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কঙ্গো সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করার পর এই বিপুলসংখ্যক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে নজরদারি বাড়ানোর ফলে এখন পর্যন্ত কঙ্গোতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষের শরীরে ইবোলা সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা গেছে। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১০১ জনের শরীরে এই মারাত্মক ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তার বিবৃতিতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা নিয়ে নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী একটি ভাইরাসজনিত রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ, যেমন—রক্ত, লালা বা ঘামের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর শরীরে তীব্র জ্বর ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ দেখা দেয়, যা পরবর্তী সময়ে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল করে দেয়। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এই রোগে মৃত্যুর হার অত্যন্ত উচ্চ।

চলতি বছরের ১৫ মে ডিআর কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সংক্রমণটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) নামক একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি বা ধরন থেকে ছড়িয়েছে। এই ধরনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ এর বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত কার্যকর টিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে ভাইরাসের বিস্তার রোধ করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্য আফ্রিকার এই দেশটির তিনটি প্রদেশে ইবোলার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সে সময় পর্যন্ত ৮৬৭টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনার বিপরীতে অন্তত ২০৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০ পার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ইবোলা ভাইরাস একটি বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয়। বিগত প্রায় অর্ধশতক ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইবোলার একাধিক প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কাজ করছে, তবে টিকা না থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার ওপরই সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ