জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রড বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়কের যমুনা সেতু সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশেরই বাড়ি দেশের উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা লোহার রড বোঝাই একটি ট্রাক যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রাকটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে গভীর খাদে উল্টে পড়ে যায়। ভারী রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন প্রাণ হারান।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), নিয়ামতপুর উপজেলার সাইদুলের ছেলে সারিকুল (২৫), রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মামুন (৪৫)। নিহত ও আহত বাকিদের পরিচয় উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হতাহত ব্যক্তিরা মূলত নোয়াখালী জেলার চৌমুহনী এলাকায় ভাঙারি মোবাইল ফোন ফেরি করে কেনাবেচার কাজ করতেন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা ফেনী জেলার মহিপাল এলাকা থেকে ওই রড বোঝাই ট্রাকে চড়ে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পণ্যবাহী ট্রাকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী পরিবহনের কারণেই হতাহতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রী আব্দুল রহমান জানান, ভোররাতে হঠাৎ করেই ট্রাকটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করে। আরোহীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে খাদে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে চিৎকার ও আর্তনাদ শুরু হয় এবং ভারী রডের নিচে অনেকেই চাপা পড়েন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় মৃত ১৫ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় মোট ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজন ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে বাকি ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।


