আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার ভোররাত থেকে চালানো এই হামলায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম রাশিয়ার সর্বাধুনিক হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রোববার ভোররাত থেকে কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আকস্মিক এই হামলায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেয়। তবে হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, নিরাপদ ভাবা আশ্রয়স্থলগুলোও ঝুঁকিতে পড়ে। কিয়েভের এক বাসিন্দা জানান, মেট্রো স্টেশনের ভেতরে অবস্থানকালে পরপর কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের ধাক্কায় স্টেশনটির ছাদের একাংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে। এ সময় ভেতরে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই কিয়েভের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন ভবনে লাগা আগুন নির্বাপণ এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রুশ বাহিনীর এই নির্বিচার হামলায় অসংখ্য আবাসিক ঘরবাড়ি, শপিং সেন্টার, ঐতিহাসিক জাদুঘর, থিয়েটার হল, স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা। এই অভিযানে রুশ বাহিনী প্রায় ৬০০টি ড্রোন এবং ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে এই হামলা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এর ফলে ৫৪৯টি ড্রোন এবং ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সামরিক কর্তৃপক্ষ। বাকি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কিয়েভের বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং একটি বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। এর আগে ইউক্রেনের অধিকৃত পূর্বাঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকার একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে ইউক্রেনীয় হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইউক্রেনকে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। রোববারের এই বিধ্বংসী হামলাকে পুতিনের সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই হামলায় ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধের তীব্রতা এবং ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিল। অত্যাধুনিক ও গতিশীল এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হওয়ায় কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই হামলার ফলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান সংঘাত আরও জটিল রূপ ধারণ করল এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


