জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে মোট ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে এই অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এর আগে গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষেও সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা পেয়েছিলেন এই কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন। রসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাঈম হাসান খান। এছাড়া রসিকের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রুবেল রানা এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শ্রম ও কষ্টকে মূল্যায়ন করছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী ও স্বচ্ছল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে রসিক প্রশাসক বলেন, রংপুর মহানগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি বর্ষা ও ঈদে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে সচেতন হওয়ার ও সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তানদের শিক্ষিত জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ালেখায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিব হাসান পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করা এই কর্মীরাই করপোরেশনের মূল শক্তি। সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এখন সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সুন্দর নগর গঠনে তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আসন্ন ঈদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের উদ্যম ও মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাঈম হাসান খান।
উপহারের চেক গ্রহণ করে অনুভূতি প্রকাশ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বুলবুল আহমেদ ও হাসনা বানু। তারা জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই রংপুর মহানগর পরিচ্ছন্ন থাকে। পর পর দুই ঈদে প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক আর্থিক মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। এই অনুদান পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবারে ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে উল্লেখ করে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


