পদ্মা সেতুতে এক দিনে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়, রেকর্ড ঈদযাত্রা

পদ্মা সেতুতে এক দিনে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়, রেকর্ড ঈদযাত্রা

জাতীয় ও আঞ্চলিক ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে রেকর্ড পরিমাণ যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার এক দিনে যানবাহন পারাপার এবং রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অনেক বেশি।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর মাওয়া ও জাজিরা—উভয় প্রান্ত মিলিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৩৫১টি যানবাহন চলাচল করেছে। এর বিপরীতে সর্বমোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে পার হয়েছে ২৮ হাজার ৬৭টি যানবাহন, যা থেকে টোল সংগৃহীত হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পার হয়েছে ১৫ হাজার ২৮৪টি গাড়ি, যেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ Rail ৩৫০ টাকা।

সেতু বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, টোল আদায়ের দিক থেকে গত ২৪ ঘণ্টার এই প্রাপ্তি পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এযাবৎকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের ৬ জুন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায় হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ। ওই দিন ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতু পারাপার করে। এছাড়া একই বছর ঈদুল ফিতরে এক দিনে আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের ১৪ জুন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায়ের মাধ্যমে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন এবং যানজটমুক্ত রাখতে সেতু কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সেতুর উভয় প্রান্তে সর্বমোট ১৯টি বুথের মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে মূল ৭টি বুথ এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি বুথসহ মোট ১০টি বুথ চালু রয়েছে। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্তে মূল ৭টি বুথ এবং ২টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ৯টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি এবং মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে মাওয়া প্রান্তে বাড়তি অস্থায়ী বুথেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ঈদযাত্রায় টোল প্লাজায় যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তের টোল প্লাজায় একটি করে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) লেন চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহন না থামিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে টোল প্লাজাগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি থেকে চালক ও যাত্রীরা রেহাই পাচ্ছেন, যা সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও গতিশীল করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ