জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। উৎসবের দিনগুলোতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ কারিগরি টিম। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের টানা ছুটির দিনগুলোতে গ্রাহক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের দিনগুলোতে সারাদেশে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ তদারকি করতে মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের সবকটি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাকে মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার সময় সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক-বীমা এবং বৃহৎ শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা অন্য সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় অনেকটাই কমে আসে। আসন্ন ঈদের ছুটিতে দেশে দৈনিক সম্ভাব্য বিদ্যুতের চাহিদা ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিংবা বৃষ্টিপাত হলে এই চাহিদার পরিমাণ আরও হ্রাস পেতে পারে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদা কম থাকলেও যেকোনো ধরনের বাড়তি চাপ কিংবা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটকে পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হলেও, বিকল্প হিসেবে হেভি ফুয়েল অয়েল (ফার্নেস অয়েল) চালিত কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফলে চাহিদার তারতম্য ঘটলেও দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো (সাব-স্টেশন) ইতোমধ্যে পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের কোথাও বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তা দ্রুত মেরামতের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চারটি জোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটি চলাকালীন দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট দ্রুত নিরসন করতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী, লাইনম্যান ও কারিগরি দল ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটিতে যে অঞ্চলে অবস্থান করবেন, সেখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা সরাসরি বিদ্যুৎ সচিবের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা— ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং উত্তরাঞ্চলের নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় বিশেষ সাড়াদানকারী দল (কুইক রেসপন্স টিম) গঠন করেছে।
গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে পবিত্র উৎসবের দিনগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ঈদের ছুটির দিনগুলোতে রিচার্জ সংক্রান্ত সাময়িক ভোগান্তি এড়াতে দেশের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের উৎসব শুরুর আগেই পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রিচার্জ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


