আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন সংঘাতের বর্তমান গতিপথকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
উইকএন্ডে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নজিরবিহীন বিমান ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের বর্তমান ধারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অজানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই টেকসই নয় উল্লেখ করে তিনি মৃত্যুর এই নিষ্ঠুর চক্র থামানোর জন্য বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতি তাগিদ দেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনে ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০০ শিশু রয়েছে। বর্তমান বছরের প্রথম চার মাসেই বেসামরিক হতাহতের হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও তাদের ভূখণ্ডে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে।
মহাসচিব উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সম্মুখভাগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও আধুনিক ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো জরুরি বেসামরিক অবকাঠামোগুলো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার ফলে সাধারণ মানুষের মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
উদ্ভূত সংকট নিরসনে গুতেরেস অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের উপযুক্ত সময় এখনই।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী কর্তৃক রুশ ভূখণ্ডের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই ব্যবহার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।


