আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে ১১ জন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নবগঠিত ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (এনসিসিআইএ)। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন শহরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনা দেশটিতে বাকস্বাধীনতা এবং অনলাইন মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এনসিসিআইএ পাঞ্জাব শাখার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনলাইন ক্যাম্পেইন ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। পাঞ্জাবের লাহোর থেকে দুজন, ফয়সালাবাদে তিনজন, মূলতানে তিনজন এবং গুজরানওয়ালা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বিতর্কিত ‘প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট’ (প্যাকা), ২০১৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনসিসিআইএ পাঞ্জাবের পরিচালক মুহাম্মদ আলী ওয়াসিম এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই প্রচারণার পেছনে অন্য কোনো বড় অনলাইন নেটওয়ার্ক বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এর মূল উদ্দেশ্য।
চলতি মে মাসেই পাঞ্জাবে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের ক্র্যাকডাউন। এর আগে মে মাসের শুরুর দিকে একইভাবে আরও ১৩ জন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার করেছিল সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, তাদের অনেকেই কারারুদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সমর্থক।
এদিকে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের এই ‘প্যাকা’ আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালার সমালোচনা করে আসছে। অধিকারকর্মীদের মতে, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অজুহাতে মূলত ভিন্নমত দমন, সাংবাদিক ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টদের কণ্ঠরোধ এবং সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এই ক্র্যাকডাউন আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ডিজিটাল ফ্রিডম সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


