অপরাধ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কোরবানির পশুর চামড়া রাখা এবং পরিবেশ নোংরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গাপুর গ্রামের বাঘারবাড়ি গোষ্ঠীর মন মিয়ার দোকানের সামনে কোরবানির পশুর চামড়া রাখেন শরিয়তউল্লাহ গোষ্ঠীর কামাল ও জয়নাল। চামড়া রাখার পর সেখানে রক্ত ও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে চারপাশের পরিবেশ দূষিত হয়। এ সময় দোকানের সামনে রক্ত ছড়িয়ে পড়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান বাঘারবাড়ি গোষ্ঠীর আক্তার মিয়া। এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বিকেলের এই ঘটনার জের ধরে রাতে উভয় গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর ও সাধারণ আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শফিকুল আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পশুর চামড়ার বর্জ্য ও রক্ত ছড়িয়ে পড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং তা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


