ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী শ্রাবণের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন

ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী শ্রাবণের মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন

জাতীয় ডেস্ক

ইরাকে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ শ্রাবণের মরদেহ অবশেষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রবাসী শ্রাবণের মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে শ্রাবণের মরদেহ বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সেখানে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিহতের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনের খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকার একটি আর্থিক অনুদানের চেক নিহতের স্বজনদের হাতে তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

নিহত মোহাম্মদ শ্রাবণ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নলি মিয়ার সন্তান। জীবিকার সন্ধানে দীর্ঘ ১০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় সম্প্রতি এক আকস্মিক মিসাইল হামলায় তিনি প্রাণ হারান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই একটি নির্মম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। গত ২৭ মে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দীর্ঘ ২৯ ঘণ্টার ট্রানজিট সূচি শেষে আজ ভোরে ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি এই ঘটনার পর পুনরায় আলোচনায় এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে দূতাবাসগুলো তৎপর রয়েছে। বিমানবন্দরে মরদেহ হস্তান্তরের পর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রাবণের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ