অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনঃনির্ধারণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে একটি কৌশলগত সমন্বয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তবে দেশের পরিবহন ও কৃষি খাতের ওপর চাপ কমাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্য ডিজেলের দাম এই দফায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই সিদ্ধান্তের পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের তীব্র ওঠানামার সাথে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মে মাসে কোনো মূল্য সমন্বয় না হলেও, পূর্ববর্তী বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাব এই সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহারের সিংহভাগজুড়ে রয়েছে ডিজেল, যা মূলত গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং সেচ কাজে ব্যবহৃত হয়। এই খাতে সরকারকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়। বর্তমান প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত তার সুফল নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোক্তাদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানো এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনকে আমলে নিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
এদিকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি বা সমন্বয়ের বিষয়ে সরকারের ভূমিকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতের ট্যারিফ বা মূল্য নির্ধারণের পূর্ণ আইনি এখতিয়ার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। সরকার পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করে কমিশনের স্বাধীন ও আইনি ক্ষমতা পুনর্বহাল করেছে। ফলে বর্তমানে এই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ বা আলোচনা নেই।
দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারি ভর্তুকির নির্ভরতা কমিয়ে আনার জন্য পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎসহ অন্যান্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানির হিস্যা জাতীয় গ্রিডে বাড়াতে পারলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর ভর্তুকির চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদেরও সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল মূল্যে বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।


