প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিন সদস্যের একটি অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল হাইকমিশনারের সাথে উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারকরণ, সামরিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতে সামরিক সংক্রান্ত সহযোগিতার নতুন ও সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর, কার্যকর ও বহুমাত্রিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে। উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় উভয় দেশ কীভাবে আরও গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশেরই দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত অবস্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে এই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক। এই সাক্ষাৎ কেবল দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থাকেই সুসংহত করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ