আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গরুকে ‘স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নতুন করে একে জাতীয় পশু ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে কোরবানির ঈদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশনা জারি করেন। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর কোনো ছবি বা চিত্র প্রকাশ করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন।
যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, সনাতন ধর্মে গোমাতার যে অনন্য মর্যাদা রয়েছে, তার জন্য আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রাখার প্রয়োজন নেই। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে গরু ইতিমধ্যে একটি স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতার স্থান অধিকার করে আছে। ফলে নতুন করে একে জাতীয় পশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি অবান্তর।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এবং কঠোর নির্দেশনা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষত, মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই ধরণের কড়াকড়ি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নাকি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই এবং গোমাংস বহনের অভিযোগে একাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন হুঁশিয়ারি উৎসবের মৌসুমে উত্তরপ্রদেশে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের এই কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্তবর্তী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল রাজ্যে গরু কোরবানির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই ধরণের কঠোর অবস্থান ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি নাগরিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমানাকেও স্পর্শ করে। উৎসবের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এটি দাবি করা হলেও, এর ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


